Home জাতীয় করোনায় মানবিকতা সফলতা ব্যর্থতার এক বছর

করোনায় মানবিকতা সফলতা ব্যর্থতার এক বছর

by Shohag Ferdaus
এক বছর

৮ মার্চ ২০২০। সেদিন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে জানানো হয় বাংলাদেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী এবং দুইজন পুরুষ। এই ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে এক বছর।

ভয়াবহ এক বছর মানুষের জীবনকে করেছে বিপর্যস্ত। প্রথম দিকে মানুষের ছিল উৎকন্ঠা, উদ্বেগ, ভাইরাস সম্পর্কে তথ্য না থাকা, গুজব, কোন ওষুধ বা টিকা না থাকা সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা।

অনান্য দেশের মতো জাতিসংঘের নির্দেশে মানুষের শুধু করণীয় ছিল বার বার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

সরকার গেলো বছরের ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করে । এর আগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় মার্চ মাসের ১৭ তারিখে। সবকিছু কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো খোলা হয়নি। এইচএসসির শিক্ষার্থীদের অটোপাস এবং অন্যন্যদের অটো প্রমোশনের বিষয়টিও আলোচিত হয়।

লকডাউনে ঘরবন্দি মানুষের খাদ্যাভাব দূর করতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে সেইসব ব্যবস্থার সুফল সব সাধারণ মানুষ সমানভাবে না পাওয়ার অভিযোগও ছিল। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা পড়ে উভয় সংকটে। লকডাউনে দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের করুণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই জনমনে ক্ষোভ ছিল। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সেটা আরও জোরালো হয়। উঠে আসে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির নানা চিত্র। শুরুতে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করে। এতে দেশজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে বলেও মন্তব্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

শুরুর আড়াই মাস কাজে লাগাতে পারেনি মন্ত্রণালয়। উল্টো চিকিৎসকদের দেয়া হয় নিম্নমানের পিপিই, মাস্কসহ সুরক্ষা সামগ্রী। এসব কেনাকাটায় ধরা পড়ে পুকুর চুরি। অনুমোদনহীন হাসপাতালকে করা হয় কোভিড টেস্ট কেন্দ্র। এসব কারণে প্রায় প্রতিদিনই রোগী থেকে আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। লকডাউন করতে হয়েছে পুরো হাসপাতাল। শুরুর দিকে নমুনা পরীক্ষা, রিপোর্ট দিতে দেরি করা, নমুনা পরীক্ষায় রোগীদের ভোগান্তি; সবমিলিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আগাগোড়া ছিল প্রশ্নের মুখে।

এদিকে নকল মাস্ক সরবরাহের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় বিব্রত হয় কেন্দ্রীয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

এছাড়া করোনাকালে রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ করিম, জেকেজি হেল্থ কেয়ারের ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফের দুর্নীতির চিত্রগুলো দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। করোনাকে পুঁজি করে তাদের হীন মানসিকাতায় দেশবাসী শুধু হতবাকই নয রীতিমতো শঙ্কায় পড়ে যান।

প্রবাসীদের দেশে ফেরানো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। নানা মহলের দাবির প্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আটকে পড়া প্রবাসীদের কয়েক ধাপে ফিরিয়ে আনা হয়।

তবে সরকারের নানা উদদ্যোগ এসময় প্রশংসিত হয়। লকডাউন চলাকালে সাধারণের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেয়া। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে পুলিশসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তার কাজ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল করোনাকালে হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার-নার্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে সেবা দিয়েছেন।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের এমপি-মন্ত্রী প্রায়ই দাবি করছে অন্যান্য যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এই এক বছরে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফলতা দেখিয়েছে।

গতবছরের এই দিনে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গতকাল ৭ মার্চ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে ৫ লাখে। গত ১৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়, আর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশে সরকারি রিপোর্ট  অনুসারে ভাইরাসটিতে ৮ হাজার ৪৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

You may also like