Home বিশ্ব চাঞ্চল্যকর তথ্য ! চীনে করোনার উৎপত্তি হয়েছে গত আগস্টে

চাঞ্চল্যকর তথ্য ! চীনে করোনার উৎপত্তি হয়েছে গত আগস্টে

by Newsroom

ভয়েস রিপোর্ট: করোনার আতংক এখন গোটা বিশ্ব জুড়ে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এরমধ্যেই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড মেডিকেল স্কুলের গবেষকরা। উপগ্রহ চিত্র এবং ইন্টারনেট সার্চের ডেটা বিশ্লেষণ করে তারা দাবি করেছেন, গেল বছরের আগস্ট থেকে চীনে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হতে পারে এবং সেসময়ই করোনা ছড়িয়ে পড়ে।
গেলো বছরের আগস্টে উহানের পাঁচটি হাসপাতালের পার্কিংয়ে স্বাভাবিক সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গাড়ি দেখা যায়। একই সঙ্গে চীনের বাইডু সার্চ ইঞ্জিনে আগস্টের দিনগুলোতে ভাইরাস বিষয়ে অনেকেই তথ্য জানতে চায়। হাভার্ডের ড্যাশ সার্ভারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বোস্টন শিশু হাসপাতালের প্রধান জন ব্রাউনস্টেইন দাবি করেন, ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে উহানের বিভিন্ন হাসপাতালের ব্যস্ততা বাড়ে। থাকে যা অন্য সময়ের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে উহানের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল তিয়ানজুর পার্কিয়ে গড়ে প্রতিদিন রাখা হতো ১৭১টি গাড়ি। কিন্তু মাত্র এক বছর পরে এ সংখ্যা হয় ২৮৫টি। আর আশপাশের রাস্তায় যানজট বেড়ে যায় ৬৭ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত।
এই দিনগুলোতে চীনারা অনলাইনে জ্বর-সর্দি-কাশি রোগের বিষয়ে পরামর্শ সার্চ করেছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। এসব কারণেই গবেষকরা মনে করছেন, গত বছরের আগস্ট থেকেই চীনে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি। আর তখনই ছড়িয়েছে করোনা ।
তবে চীনের দাবি, গত ডিসেম্বরে উহান শহরের বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বাজার থেকে রোগটি প্রথম ছড়ায়। গোটাবিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭২ লাখের বেশি, মারা গেছে ৪ লাখের বেশি মানুষ। এসময় সুস্থ হয়েছে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ৫শ মানুষ।
এরই মধ্যে আবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। সোমবার জেনেভায় সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস সতর্ক করেছেন, মহামারির ছয় মাস পার হলেও এখনই কড়াকড়ি শিথিলের সময় আসেনি।
শুরুতে করোনা মহামারির কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব এশিয়া। পরে ইউরোপ থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে আমেরিকায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণের হার। সোমবার জেনেভায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ইউরোপের অবস্থার উন্নতির দিকে গেলেও সামগ্রিকভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।
গত ১০ দিনের নয়দিনই প্রতিদিন বিশ্বে এক লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। রোববার শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি, যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ। রোববার শনাক্তকৃত রোগীর ৭৫ শতাংশই আক্রান্ত হয়েছে মাত্র ১০টি দেশে। এর বেশিরভাগই লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ।
মহামারির ছয় মাস চললেও কোনও দেশের জন্য এখনো স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলার সময় আসেনি জানিয়ে টেড্রোস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জেরে চলমান বিক্ষোভ থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। তাই বিক্ষোভকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি মেনে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি।

You may also like