Home অপরাধ তরুণীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন : টিকটক হৃদয় গুলিবিদ্ধ

তরুণীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন : টিকটক হৃদয় গুলিবিদ্ধ

by Newsroom

ভারতের কেরালায় তরুণীকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতনের ভাইরাল ভিডিওর হোতা হৃদয় বাবুসহ দুইজন পালাতে গিয়ে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

ভিকটিম তরুণীকে শনাক্ত করে একটি পতিতালয় থেকে তাকে উদ্ধার করে ভারতের বেঙ্গালুরুর পুলিশ। এরপর একেএকে অভিযুক্ত চার তরুণ ও দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে তারা। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশকেও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বেঙ্গালুরুর পুলিশ।

এদিকে শুক্রবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে বেঙ্গালুরুর চান্নাসান্দ্রের কারেগোড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অপরাধীরা বাসা ভাড়া নিয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চারজনের মধ্যে দুইজন পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ‘ওপেন ফায়ার’ করে।

পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর দুইজন মিলে আক্রমণের শুরুতে পুলিশ সদস্যদের হাঁটু সজোরে লাথি মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

 

বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের এক প্রেস নোটে জানানো হয়, ভিডিও ক্লিপস দেখে ঘটনায় জড়িত এক নারীসহ পাঁচজনকে দ্রুত শনাক্ত করে আটক করা হয়। এরপর ভিডিও ক্লিপ এবং আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে রামমূর্তি নগর থানায় তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নিপীড়ন ও এ সংশ্লিষ্ট আইনের অন্যান্য ধারায় মামলা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই বাংলাদেশি।

এ বিষয়ে দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চক্রটি ওই তরুণীকে নির্যাতনের সময় ভিডিও ধারণ এবং ক্লিপ আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই নর্থ ইস্ট পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

অভিযুক্তদের তথ্য পেতে আসাম পুলিশ তাদের ছবিও আপ করে টুইটারে। এরই একপর্যায়ে বেঙ্গালুরুর একটি সেল ফোন থেকে ভিডিওটি ছড়ানোর বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশকে সতর্ক করা হয় এবং একটি বিশেষ দল কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের শনাক্ত করে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয় একটি ভাড়া বাসা থেকে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ জানান, বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার এক তরুণীকে ভারতের কেরালা রাজ্যে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশেরই রিফাতুল ইসলাম হৃদয় (২৬) নামে এক যুবক জড়িত বলে সত্যতা পেয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত যুবক রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা। গত কয়েকদিন ধরে ভারতে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওটি আমাদের নজরে আসে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০-২২ বছরের একজন তরুণীকে বিবস্ত্র করে ৩/৪ জন যুবক শারীরিক ও বিকৃতভাবে যৌন নির্যাতন করছে। ভিডিওটির একজনের সঙ্গে বাংলাদেশি একটি ছেলের ছবি মিলে যায়। এরপরই এ বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করি।

তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায়, নির্যাতনকারী ওই যুবকের নাম রিফাতুল ইসলাম হৃদয়। সে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বাসিন্দা। রিফাতুল ইসলাম হৃদয়ের পরিচয় তার মা ও মামার কাছ থেকে শনাক্ত করা হয়। এলাকায় সে টিকটক হৃদয় নামে পরিচিত।

উপ-কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে হৃদয়ের মা ও মামাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে ৪ মাস আগে হৃদয়কে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাসার কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। তদন্তের একপর্যায়ে হৃদয়ের মামার হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তার ভারতীয় নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। হৃদয় জানায়, গত ৩ মাস আগে সে ভারতে গেছে। যৌন নির্যাতনের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেই ঘটনা ঘটে ১৫ থেকে ১৬ দিন আগে।

হৃদয় ফোনে তার মামাকে আরও জানায়, ভিকটিম তরুণী বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। সে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় থাকত। ওই তরুণীর আরও পরিচয় জানতে চাওয়া হলে হৃদয় হোয়াটসঅ্যাপে ভিকটিমের একটি ভারতীয় পরিচয়পত্র আধার কার্ড পাঠায়। যৌন নির্যাতনের ঘটনায় হৃদয় ও তার কয়েকজন বন্ধু জড়িত ছিল। এটি ঘটে ভারতের কেরালায়।

ভয়েস টিভি/ডি

You may also like