Home রাজনীতি টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের পরিচালক সেলিম খানকে গণসংবর্ধনা

টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের পরিচালক সেলিম খানকে গণসংবর্ধনা

by Shohag Ferdaus

মহান স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের পরিচালক মোঃ সেলিম খানকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।  একই অনুষ্ঠানে চাঁদপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

২৬ মার্চ শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নে প্রস্তাবিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

গণসংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে হাজির হতে থাকে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

লক্ষীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ইউনুছ শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তি যোদ্ধারা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক মোঃ সেলিম খান।

 

মোঃ সেলিম খান তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশ বিদেশে সর্বত্র প্রদর্শিত হচ্ছে এ সিনেমাটি। এ চলচ্চিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু এবং জননেত্রীকে নিয়ে আমরা আরও চলচ্চিত্র নির্মাণ করব।

চাঁদপুরের লক্ষীপুর ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম খান বলেন, আজ ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত এক মহান দিন। এই দিন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য বাংলার দামাল ছেলেরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে। ৯ মাসের যুদ্ধে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে বীর বাঙালি বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। কিন্তু ভাবলে চলবে না যে, কেবল ৯ মাস যুদ্ধ করেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস আরও অনেক লম্বা। ১৯৪৭ সালে এই সংগ্রামের শুরু। তখন বঙ্গবন্ধু গড়ে তুলেছিলেন গণতান্ত্রিক যুবলীগ। এই গণতান্ত্রিক যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন, আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বাবা মরহুম এম এ ওয়াদুদ। বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য এরপর বঙ্গবন্ধু গড়েছেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ।

শাপলা মিডিয়ার চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খান আরও বলেন, বাঙালির স্বাধীনতার জন্য ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দাবি দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে ১৯৬৯ সালে হয়েছে গণ অভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে। এই সব কিছুই বাঙালির স্বাধীনতার ভীত রচনা করেছে। বাঙালির স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে চার হাজার ৬৮২ দিন জেল খেটেছেন আমাদের মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতা কেবল নয় মাস যুদ্ধ করেই হয় নাই। ২৩ বছর সাত মাস ধরে সংগ্রাম করে নিজের জীবন বিপন্ন করে বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে পূরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু। তাই কেবল, মুক্তিযুদ্ধ নয়, আমাদের প্রচারের মূল লক্ষ্য বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম আর এর পেছনের মূল কারিগর মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

গণসংবধনা অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন, টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকার শামীম আহমেদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই প্রদর্শন করা হয়। শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ভয়েস টিভি/এসএফ

You may also like