Home সারাদেশ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

by Newsroom
৩০ গ্রাম প্লাবিত

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপূত্র ও যমুনার পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও বগুড়ায় তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে চাঁদপুরের মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর পানি। পানিবন্দি রয়েছে লাখো মানুষ। ডুবে গেছে মাঠের ফসল। এদিকে, নীলফামারীর বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বাড়ছে ব্রহ্মপূত্র নদের পানি। প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা। মহাসড়কসহ বিভিন্ন উপজেলার ৫টি জায়গায় সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার ৬০ ইউনিয়নের ৫২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জায়গায় বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

এছাড়া জামালপুরেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে বুধবার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৭টি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বন্যায় পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত ২ জনের মৃত্য হয়েছে।

বগুড়ার যমুনার পানি ২৪ ঘন্টায় ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়ে বুধবার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন এলাকা । পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ২৫ হাজার ২শ ৫০টি পরিবার। আরো দুই-তিন দিন পানি বাড়তে পারে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের সৈয়তপুর ঘাটে বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জেলা প্রশাসন মো: আব্দুল মতিন। উপস্থিত ছিলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমানসহ অনেকে।

নীলফামারীতে বন্যা পরবর্তী খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে তিস্তা তীরের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ হাজার ২৭০টি পরিবার। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ১৪৭টি বাড়ি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১১০ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ টাকা ও ১ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন জানায়।

চাঁদপুরের মেঘনা-ডাকাতিয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত কয়েকদিন উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে ত্রি-নদীর মোহনায় পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। এতে নদী তীরের মানুষের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।

নওগাঁয় ছোট যমুনা নদীর নান্দাইবাড়ি-কৃষ্ণপুর-মালঞ্চি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। আরো গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এরইমধ্যে রাণীনগর উপজেলার নান্দাইবাড়ি, কৃষ্ণপুর, মালঞ্চি, দুর্গাপুরসহ কয়েকটি গ্রাম ও নদীর তীরের গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে নওগাঁ-আত্রাই মহাসড়কটি।

ভয়েসটিভি/হ্যাপি/ডিএইচ

You may also like