Home সারাদেশ বাঁধে ধস, বালুর বস্তা ফেলে ঠেকানোর চেষ্টা

বাঁধে ধস, বালুর বস্তা ফেলে ঠেকানোর চেষ্টা

by Shohag Ferdaus
বাঁধে ধস

তিস্তা নদীর বাম তীরের লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সলেডি স্প্যার-২ এ ধস দেখা দিয়েছে। বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এলাকাবাসী।

২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ ধসে পড়তে শুরু করে বাঁধটি। মুহূর্তেই বাঁধটির এক তৃতীয়াংশেরও বেশি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তা নদীর বাম তীরের ভাঙন ও বন্যা থেকে রক্ষায় ২০০৩-০৪ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন এলাকায় সলেডি স্প্যার বাঁধ-২ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত বছর বাঁধের কিছু অংশে ভাঙন দেখা দিলে চলতি বছরে সংস্কার শুরু হয়। সেই সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে তিস্তায় পানি কমে যাওয়ায় হঠাৎ ভাঙনের কবলে পড়ে বাঁধটি। স্থানীয়রা রাতেই মসজিদের মাইকে মাইকিং করে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধটি কিছুটা রক্ষার চেষ্টা করেন। রাত যেতে না যেতেই ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে পুনরায় একই স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে বাঁধটির এক তৃতীয়াংশ ধসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নদী ভাঙনে দিশেহারা ৪ গ্রামের মানুষ

ফের মাইকিং শুনে গ্রামবাসী ছুটে এসে বাঁধটি রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কিছু জিও ব্যাগ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের মাধ্যমে রক্ষার চেষ্টা চালান। বাঁধটি রক্ষায় ব্যর্থ হলে ভাটিতে থাকা কয়েক হাজার বসতভিটা নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার শঙ্কায় কান্নার রোল পড়েছে নদী পাড়ে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষও বাঁধটি রক্ষায় কাজ করছেন। বাঁধটি রক্ষায় শিশু কিশোররাও নেমে পড়েছেন বস্তা নিয়ে।

এ দিকে বাঁধটি রক্ষায় সহায়তা করতে এবং বিলীন হলে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ঘটনাস্থলে প্রস্তুত করা হয়েছে আদিতমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। তারা নদীপাড়ে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে

স্থানীয় মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, রাতে হঠাৎ বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। মসজিদের মাইকে মাইকিং করে ডাকলে গ্রামবাসী নিজেদের বাড়িতে থাকা বস্তা নিয়ে বালু ভর্তি করে ডাম্পিং করে কিছুটা রক্ষা করেছেন। সকালে আবারও তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ফলে গ্রামবাসী দিশেহারা হয়ে পড়েছে। গ্রামবাসীর সহায়তায় বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে বাঁধের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ধসে পড়ে নদীতে বিলীন হয়েছে। বাঁধটি রক্ষায় ব্যর্থ হলে নদীর গতিপথ পরির্তন হয়ে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি নদীর স্রোতে ভেসে যাবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, সলেডি স্প্যার বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। গ্রামবাসীকে নিয়ে রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি নিজেও নদীপাড়ে গিয়েছেন বলে জানান।

ভয়েস টিভি/এসএফ

You may also like