Home জাতীয় রাতের জোয়ারে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় উপকূলের মানুষ

রাতের জোয়ারে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কায় উপকূলের মানুষ

by Shohag Ferdaus
মানুষ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে দেশের ২৭ টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের ৯ জেলার ২৭ উপজেলায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। উড়িষ্যায় ইয়াস আঘাত হানার পর দুপুরের জোয়ারে দেশের এসব উপজেলায় পানি প্রবেশ করে। রাতের জোয়ার নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে উপকূলের কয়েক লাখ মানুষ।

২৬ মে বুধবার সকালে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ছয় থেকে সাত ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব ও ভরা পূর্ণিমার কারণে জলোচ্ছ্বাস ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শুরুটা কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরারটেক উপকূল দিয়ে। এরপর দক্ষিণ দিকের সমিতিপাড়া, লাবণী, সিগাল, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে হয়ে সুদূর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ গিয়ে শেষ হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসে সৈকতের তীরের ঘরবাড়িগুলো প্লাবিত হচ্ছে।

কুতুবদিয়াপাড়ার একটি ঝুপরিঘরে বসতি করছেন গৃহবধূ ছেনুয়ারা বেগম। সঙ্গে মা ও চার ছেলেমেয়ে। লোনাজলে ঘরের আঙিনা ডুবে আছে। ছেনুয়ারা বেগম (৩৬) বললেন, ‘সকালের জোয়ারে ঘরটি আরও ডুবে গিয়েছিল। এখন পানি সাগরে নেমে গেছে, তাই পানিও নেই। রাতের জোয়ারে আবার জলোচ্ছ্বাস হবে। তখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না।’ ছেনুয়ারা শুঁটকিমহালে শ্রমিকের কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা আয় করেন। সেই টাকায় চলে সংসার। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তিন দিন ধরে শুঁটকি উৎপাদনও বন্ধ।

ভোর থেকে খুলনার কয়রা উপকূলে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। বেলা ১১টার পর থেকে জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করে। উত্তাল ঢেউ এসে আঘাত করে দুর্বল বেড়িবাঁধে। প্রথম পর্যায়ে বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে নদী উত্তাল হয়ে উঠলে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। সেখান থেকে লোকালয়ে নদীর নোনা পানি প্রবেশ করে। প্লাবিত হয় বহু গ্রাম।

মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া গ্রামের আসমা বেগম বলেন, ঝড় আসলে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি বাড়িতে প্রবেশের আতঙ্কে থাকতে হয়। আম্পানেও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। আজও বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে ঘর প্লাবিত হয়েছে। রাতের জোয়ার নিয়েই এখন বেশি শঙ্কা।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ গাবুরা ইউনিয়নের আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দুপুরের জোয়ারে বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়। ভাটায় পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধ নির্মাণে নেমে পড়ে এলাকাবাসী। রাতের জোয়ারে পানি বেশি হলে সবকিছু ভেসে যাবে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

You may also like