Home জাতীয় যে কারণে ব্রিটিশরা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট প্রণয়ন করেছিল

যে কারণে ব্রিটিশরা অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট প্রণয়ন করেছিল

by Shohag Ferdaus
প্রণয়ন

বাংলাদেশে প্রথবারের মতো ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের আওতায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ব্রিটিশ এ আইনটি পাকিস্তানে বাতিল করা হয় এবং ভারতের আদালত রায় দেয় এ আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। তবে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশে আইনটি আয়ত্তীকরণ করা হয় এবং পরে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় এটি যুক্ত করা হয়। রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর আইনটি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

ইতিহাস অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে ১৮৯৯ সালে ব্রিটিশ-ভারতের ভাইসরয় লর্ড কার্জন দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবার ‘ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করেন। মূল উদ্দেশ্য ছিল, সে সময়কার ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি আন্দোলনকারীরা যেন সরকারি তথ্য বা নথি না পায়, তা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ, ব্রিটিশদের অধীনে চাকরিরত ভারতীয় কর্মকর্তারা যেন স্বদেশিদের গোপনে তথ্য না দিতে পারেন সে জন্য সামন্ত যুগের ‘গুপ্তচর বৃত্তি’ এখানে আইনের ধারা হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। ১৯০৪ সালে এই আইনটি সংশোধন করে আরও কঠোর করা হয়। এর পর ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করেন। পরে ১৯২১ সালে আর্ল অব মিন্টো ভাইসরয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘ইন্ডিয়ান অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেন। এ দফায় এ আইন প্রয়োগের আওতা আরও বাড়ানো হয়। আইনটির নতুন নাম হয় ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩।’ স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ৩০ জুন প্রণীত ‘দ্য বাংলাদেশ লজ (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট’-এর? দ্বিতীয় তফসিলে দুটি শব্দ পরিবর্তন করে সরকারি গোপনীয়তা সংক্রান্ত ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ আইনটি আত্তীকরণ করা হয়।

এর পর ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় সেই ঔপনিবেশিক অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকে সংযুক্ত করে সরকারি অফিসের ফাইল বা নথির ছবি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সংগ্রহ করাকে গুপ্তচর বৃত্তি উল্লেখ করে সর্বোচ্চ ১৪ বছর সাজার মেয়াদ করা হয়।

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে প্রশাসন মামলা দায়েরের পর ২০০৯ সালে ভারতের দিল্লির একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আইন সাংবাদিক কিংবা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না বলে রায় দেন। আইনটি পাকিস্তানের আইনেও আত্তীকরণ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডে ১৯৮০ সালে সামগ্রিক আইন সংস্কার করা হলে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট বাতিল হয়ে যায়।

বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া বলেন, ২০১১ সালে জনস্বার্থসংশ্নিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন পাস হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে- জনস্বার্থে জরুরি মনে হলে গোপনীয় হলেও সে তথ্য প্রকাশ করা যাবে। এমনকি যদি তথ্যের সমর্থনে ডকুমেন্ট না থাকে কিন্তু তথ্য সত্য বলে বিশ্বাস করার দৃঢ় ভিত্তি আছে, তাহলেও তথ্য প্রকাশ করা যাবে এবং তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা দিতে হবে। এমনকি এ আইনে জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশকারীকে পুরস্কৃত করার বিধানও আছে। রোজিনা ইসলাম জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করেছেন কিংবা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। অতএব তাকে আইন অনুযায়ী পুরস্কৃত করার কথা। অথচ সরকারি কর্মকর্তারা তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করেছেন। এ কারণে এ আইনের ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ ঘটনা ঘটিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন বলেও প্রতীয়মান।

তিনি আরও বলেন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ঔপনিবেশিক যুগে ভারতীয়দের স্বদেশি আন্দোলন দমন মাথায় রেখে তখনকার ঔপনিবেশিক শাসকরা করেছিলেন। এ আইন স্বাধীন দেশে থাকাটাই অগ্রহণযোগ্য। অথচ সেটার অপপ্রয়োগ হচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে। এটা খুবই লজ্জার।

ভয়েস টিভি/এসএফ

You may also like