Home সারাদেশ ঝড়ের রাতে শাবক নিয়ে সাঁতরে আশ্রয়কেন্দ্রে এলা চিত্রা হরিণ

ঝড়ের রাতে শাবক নিয়ে সাঁতরে আশ্রয়কেন্দ্রে এলা চিত্রা হরিণ

by Shohag Ferdaus
হরিণ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি আর বাতাস। ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। সুন্দরবনের মধ্যে সাগর তীরের দুবলা জেলেপল্লি টহল ফাঁড়ির কর্মীরা আগেই আশ্রয় নিয়েছেন পাশের সাইক্লোন শেল্টারে। হঠাৎ শেল্টারের নিচে ছোট্ট এক শাবককে নিয়ে সাঁতরে এসে উঠল দুটি মায়াবী চিত্রা হরিণ। ঘটনাটি ২৫ মে মঙ্গলবার মধ্যরাতের। তখন ঘরির কাঁটায় রাত ১২টা।

হরিণশাবকটির বয়স হবে মাস তিনেক। সাঁতরে আসার পর সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। পরম মমতায় মা হরিণটি গা চেটে দিচ্ছে শাবকের। গতকাল বুধবার সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর হাসান ইমরানের ফেসবুকে পোস্ট করা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময়কার এক মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে এমন চিত্র।

ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে দুবলার বনকর্মীদের ব্যারাক, মসজিদ ও জেটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের পর দুবলার চরের আলোরকোলসহ কয়েকটি এলাকায় জোয়ারের সঙ্গে ভেসে এসেছে মৃত হরিণ। গতকাল রাত পর্যন্ত উদ্ধার তিনটি মৃত হরিণের মধ্যে একটির পেটে বাচ্চা ছিল।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, স্বাভাবিকের চেয়ে জোয়ারের পানি অন্তত সাত–আট ফুট বেশি হয়েছে। এই পানিতে বনের প্রায় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত বছরের আম্পানের চেয়ে এবার জোয়ারে সুন্দরবনে এক থেকে দেড় ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। সুন্দরবনের চিত্রল হরিণ সাধারণভাবেই একটু চঞ্চল ও ভীরু প্রকৃতির হয়। এরা সাঁতরে বড় নদীও পার হয়ে যেতে পারে। তবে উঁচু জোয়ার ও বাতাসের মধ্যে আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছোটার সময় পানির তোড়ে হয়তো হরিণগুলো ভেসে গিয়ে মারা গেছে। পানির কারণে আরও বন্য প্রাণী মারা যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

You may also like